April 19, 2026, 2:36 pm

রূপগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় \ ভোগান্তিতে মানুষ \ স্থানীয় প্রশাসন নিরব

রূপগঞ্জ ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়কের গোলাকান্দাইল গোল চত্বরের ঘেঁষে সড়কের ঢালে ও মহাসড়কের উপরেই ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা । এসব আবর্জনা পঁচে চারদিকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রযেেছ এলাকাবাসী ও হাজারো পথচারী। এলাকায় আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের সাওঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে বিসমিল্লাহ আড়ৎ নামে পাইকারী কাঁচাবাজার। এই আড়তের অবশিষ্ট বর্জ্য প্রতিদিনই ভ্যান গাড়ি দিয়ে সড়কের ঢালে ও মহাসড়কের উপরেই ফেলা হচ্ছে । তাছারা প্রতিদিন ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে সড়কের উপরে বসা মাছ, ফলের ও সবজির দোকান। আর এসব দোকানের অবশিষ্ট ময়লা আবর্জনাও প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে। গত এ বছর আগে বিগত ইউএনও মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফুটপাত,মহাসড়ক দখলমুক্ত করে। তাছারা যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেয়। এর কিছিুদিন পর আবার ধীরে ধীরে মহাসড়কের পাশে ফুটপাত ও সড়কের কিছু অংশ দখলদারদের দখলে চলে যায় এবং কিছু স্থানে ময়লা ফেলে ময়লা আবর্জনার স্তুপ তৈরী হয়। এখন স্থায়ীভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়াান হাইওয়ে সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়কের গোলাকান্দাইল গোল চত্বরের ঘেঁষে সড়কের ঢালে ও মহাসড়কের উপরেই ময়লা আবর্জনা ফেলে এ স্থানটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে।
কথা হয় ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার সঙ্গে তিনি বলেন, ভুলতা গাউছিযা মার্কেটে আমার দোকান আছে। প্রতিদিন সকালে আমার দোকানে আসতে হয় এবং রাতের বেলা বিআরটিসি গাড়ি করে যেতে হয। ময়লার ভাগারের বিপরীদ দিকেই ভুলতা-কুড়িল বিআরটিসি কাউন্টার। সকাল বেলা বিআরটিসি থেকে নামলেই দুর্গন্ধে পেট ফুলে যায়। মনে হয় দুর্গন্ধে এই বুঝি বমি এলো। নাক, মুখে কাপড চেপে কোনমতে এতোটুকু রাস্তা পার হই। আরেক ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহ জানান, ভ‚লতা ফ্লাইওভারের নীচে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় এখন জনদ‚র্ভোগ হয়ে দাড়িয়েছে। ময়লার দ‚র্গন্ধ চারিদিকে ছড়াচ্ছে। দ্রæত ব্যবস্থা ময়লার ভাগাড় এখান থেকে অপসারণ না করলে এখানে ব্যবসা বানিজ্য ও বসবাস করা মুশকিল হয়ে পড়বে। এ ধরনের অভিযোগ হাজার হাজার সাধারণ মানুষের।
ময়লা ফেলতে আশা ভ্যান চালকদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন এর পিছনের পাইকারি কাঁচাবাজার আড়তদার বাদশা মিয়ার নির্দেশেই এখানে আমরা ময়লা ফেলছি। এ ব্যপারে বাদশা মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তিনি তা অস্বীকার করে। তবে আড়ৎ কমিটির লিটন নামে এক ব্যক্তি জানায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশেই এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা তার পরামর্শক্রমে সবকিছু করি। সরকারি জায়গায় ময়লা ফেলছেন কার কাছ থেকে অনুমোতি নিয়ে এই প্রশ্নের জবাবে লিটন মিযা বলেন, খোলা পড়ে আছে তাই আমরা এখানে ময়লা ফেলছি। আমাদের এখানে আশেপাশে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই তাই এখানে খালি জায়গা পেয়ে কর্মচারীরা ময়লা ফেলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরজাহান আরা খাতুন জানান, তীব্র গন্ধদুষনের শিকার হলে যেকোন মানুষের মস্তিস্কের ¯œায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাড়তে পারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাছাড়া শিশু ও বয়স্কদের শ্বাস কষ্টের সমস্যাও হতে পারে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরত জাহান বলেন, মার্কেট পরিচালনা কমিটিকে বলে দেওয়া আছে খোলা জায়গায় যাতে তাদের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য না ফেলে। আর সরকারি জায়গাতে তো তাদের ময়লা ফেলার কোন এখতিয়ারই নাই। ফুটপাত দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোভিডের কারনে আমাদের চলমান কাজগুলোও ব্যহত হচ্ছে । কোভিডের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অভিযান চালানো হবে। তাছারা কেউ এ ব্যপারে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।###

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা